গ্যালারি

ছোটগল্পঃ ইঁদুর দৌড়

images bb-আরে, জাকির না?
হেডফোনটা মাত্র কান থেকে সরিয়েছি, শুনতে পেলাম কেউ নাম ধরে ডাকছে। তাকিয়ে দেখি রাশিক, ছোটবেলার বন্ধু।
-আরে, রাশিক মামা নাকি?
-কি খবর দোস্ত? রাশিক দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরল।
-আলহামদুলিল্লাহ, ভাল আছি। তোর কি খবর?
-এইতো, চলে যাচ্ছে। দেশে এসছিস কবে?
-এইতো, একুশ তারিখে।
-পাঁচদিন হয়ে গেল, কোন খবর দেয়ার প্রয়োজনবোধ করলি না?
-আসলে দোস্ত, প্ল্যানড ছুটি না। আব্বা হঠাত অসুস্থা হয়ে পড়ল, হসপিটালাইজ করা লাগল, আম্মা প্রতিদিন ফোনে কান্নাকাটি করে, না এসে আর পারলাম না।
-আংকেল হাসপাতালে? বলিস কি? জানি না তো।
-অথচ এই তুই একসময় প্রতিদিন আমাদের বাসায় আসতি।
-খোঁচা দিয়ে লাভ কি বল? এখন সবাই নিজের জীবন নিয়েই ব্যস্ত। তোর ভাইটাও অসামাজিক। বিপদ আপদে আমাদের মনে করলে আমারাও কিছু করতে পারি।
-সাকি একটু অন্যরকম। ছোটকাল থেকেইতো দেখছিস।
-তা দেখছি। সাকিকে আর দোষ দিয়ে কি হবে বল? গত দশ বছরে ফেসবুকে লাইক দেয়া ছাড়া তুই নিজে কোন সামাজিকতা পালন করেছিস?
-বাব্বা, সাকিকে ছেড়ে এখন আমার আমলনামা নিয়ে পড়েছিস? আমি আবার খোঁচাই।
-বাদ দে। ভাবীর খবর কি?দেশে নিয়ে আসছিস? রাশিক জানতে চায়।
-ওর অফিস থেকে ছুটি পাওয়া গেল না। তাছাড়া বাচ্চাদের স্কুলও খোলা।
-ওহ।
হঠাত দুজনেই চুপ হয়ে যাই। নীরবে পাশাপাশি হাটতে থাকি।
-জাকির।
-বল।
-চল, ওখানে একটু বসি।
-কোথায়?
-ওখানে। রাশিক আঙুল উঁচিয়ে দেখায়।
আমি তাকাই। একটা মাল্টি স্টোরিড বিল্ডিং এর কন্সট্রাকশন চলছে।নীচে থরে থরে ইট সাজিয়ে রাখা আছে।
-ওখানে বসবি?
-হ্যা।
-আরে হাটতে থাক। সকালের এই ফ্রেশ আবহাওয়া হাটতে ভালই লাগে।
-ভাই, আমি হাটতে হাটতে টায়ার্ড। এবার একটু বসা দরকার।
-আমিতো বসতেই পারি। কিন্তু কার না কার কন্সট্রাকশান সাইট, ঢুকতে দেবে।
-দেবে না মানে, আমার কন্সট্রাকশান সাইট। আমি ঢুকব, বের হব, বসে থাকব, শুয়ে থাকব, যা ইচ্ছা করব। কোন বাপের ব্যাটা থামাবে আমাকে?
-বাব্বা, তোর কনফিডেন্স লেভেল দেখি অনেক বেড়েছে।
গেট পেরিয়ে আমরা ভেতরে ঢুকে যাই, সাজানো ইটের ওপর পা ছড়িয়ে বসে পড়ি।
রাশিক কোনরকমে বসে পরে দুটো ইটের ওপর, হাপাতে থাকে বিশ্রীভাবে।
আমি এই প্রথম ভালভাবে রাশিকের দিকে তাকাই। অহংকার করছি না, তবে আমি নিশ্চিত অপরিচিত কেউ এখন আমাদের দুজনকে দেখলে ব্যাচমেট বলে বিশ্বাস করবে না। রাশিকের গালের চামড়া ঝুলে গেছে, জুলফির দুপাশে পাক ধরেছে। চশমাও দেখি লাগিয়েছে একটা। তবে সবচেয়ে বাজেভাবে বেড়িয়ে আছে ভূড়িটা, লাল রঙের স্কীন টাইট টিশার্টে বিশ্রী লাগছে। এমন কাপড় পড়ে মর্নিং ওয়াক করার রুচি হয় কি করে?
-কি দেখিস? রাশিক হাপাতে হাপাতে প্রশ্ন করে।
-তোকে।
-আমাকে দেখার কি আছে? চিড়িয়াখানারর বাদর নাকি আমি?
-বাদরেরতো ভুড়ি থাকে না।
-ওহ, এটা। রাশিক নিজের ভুড়িতে হাত বুলিয়ে নেয়।
-জ্বি, জনাব ওটা।
-সবাই কি আর তোর মত স্পোর্টসম্যান? আমরা কি আর খেলার জন্য টাকা পাই?
-কিসের মধ্যে কি টানছিস? আমি পেশাদারী খেলাধুলা ছেড়েছি দশ বছর আগে। তবুও এখনো নিজের ফিটনেস ধরে রেখেছি।
-ভাই, আমি থাকি বাংলাদেশে। আমাকে কাজ করে কামাই করতে হয়। আর তুই থাকিস আমেরিকায়।
-তো? আমেরিকায় কি আমাকে ফ্রী খাওয়ায়? আমিও কাজ করেই খাই।
-ওখানেতো গলির মোড়ে মোড়ে জিম।
-তাই নাকি? দেখলাম না তো।
-এত বছর পর দেখলাম তোকে। তুই কি এখন আমার সাথে ঝগড়া করবি?
-ঝগড়া নারে ভাই, তোকে নিয়ে আমি কনসার্নড।
-কেন?
-তোর কি ডায়াবেটিস ধরা পড়েছে? কিংবা হার্ট প্রবলেম?
-তুই আমার বন্ধু না শত্রু? আমাকে শুধু রোগবালাই দিতে চাস।
-ভাই, তুই কখনোই ভোরের পাখি ছিলি না। এই ভুড়িটাও প্রমান করে তোর স্বাস্থ্যসচেতনতা কতটুকু।তাহলে তুই মর্নিং ওয়াকে বের হলি কেন?
-ডায়াবেটিস।গতবছর ধরা পড়েছে। রাশিক আস্তে করে জবাব দেয়।
-তারপর থেকেই সকালে হাটাহাটি ধরেছিস?
-হু।
-রাশিক।
-বল।
-আমাদের চল্লিশ পেরলো কবে বলতো।
-তোরটা জানিনা, আমার গত বছর পার হল।
-তোর কি মনে আছে স্কুলে থাকতে আমরা প্ল্যান করেছিলাম অন্তত তিন শতাব্দী বেচে থাকব?
-হ্যা। বিংশ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে দ্বাবিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগ।রাশিক হাসতে হাসতে জবাব দেয়।কি যে বেকুব ছিলাম আমরা।
-কেন?
-এই ফিটনেস হবে বলে মনে হয়ে তোর?
-তবে?
-এজন্যই জানপ্রান দিয়ে খাটি। মরার আগে ছেলেপেলের জন্য কিছু রেখে যাওয়া দরকার।
আমি চুপ করে শুনতে থাকি।
-এটা ছাড়াও আরো তিনটা সাইটে আমার কোম্পানি কাজ করছে। ফ্ল্যাটগুলো সব বিক্রি হয়ে গেলে পায়ের নিচে শক্ত মাটি পেয়ে যাব।
-তারপর?
-তারপর আর কি? তখন আরো বড় লোন প্ল্যান আছে। ব্যবসাটা বাড়াতে হবে না?একটু ধর।রাশিক হাত বাড়িয়ে দেয়।
-কি হল? আমি জানতে চাই।
-অনেক বেলা হয়েছে।
আমি ঘড়ির দিকে তাকাই। সাড়ে সাতটা মাত্র।
-আরে ভাই, এখন বাসায় গিয়ে গোসল করব, তারপর নাশতা। আর এই শহরের জ্যাম পেরিয়ে অফিসে পৌছাতে লাগবে অন্তত ঘন্টাখানিক। আল্টিমেটলি নয়টা পেরিয়েই যায়।
-বলিস কি? পনের মিনিটের রাস্তা এক ঘন্টা লাগে?
-এখন সাথে স্কুল টাইম আর অফিস টাইম।জ্যাম না গুনলে হবে?
-চল তাহলে।
আমি হাত বাড়িয়ে দেই, রাশিক উঠে পড়ে।আমরা দুজন হাটতে শুরু করি।
তখনই হঠাত মনে পড়ে যায় আমার। রাশিক।
-বল।
-যেখানে এতক্ষন আমরা বসেছিলাম ওখানেই ছোটবেলায় নিয়মিত খেলতাম আমরা। তাই না?
-হ্যা।
-বাবর চাচার জমি না? কেমন আছেন চাচা?
-গতবছর মারা গেছেন।চাচার ছেলেটা বাইরে থাকে, বাবার মৃত্যুর সময় দেশে এসেছিল। তখনই ডিলটা ফাইনাল করি।
-বাবর চাচা থাকলে তুই জীবনেও জমিটা পেতি না।
-তা ঠিক। চাচার ওই এক কথা, এই মাঠটা না থাকলে বাচ্চারা খেলবে কোথায়?
-রাশিক।
-বল।
-একটু আগে পাশ দিয়ে যে গাড়িটা গেল ওটা তোর ছিল না?
-হ্যা, ড্রাইভারের পাশে বসা বাচ্চাটাই আমার ছেলে। স্কুল টাইম।
-পুরাই তোর মত।
-পজেটিভলি বললি না নেগেটিভলি?
-মানে?
– মানে আমার মত মোটা?না আমার মত কিউট?
-তার মানে তুই বাচ্চার স্বাস্থ্য নিয়ে কনসার্নড?
-হব না? এত করে বলি, বাইরে যা, একটু খেলাধুলা কর। তা না, সারাক্ষণ খালি মোবাইলের স্ক্রীন আর কম্পিটারের মনিটরে তাকিয়ে থাকবে।এই বয়সে একটু না খেললে হয়?
-খেলবে কোথায়? ওদের খেলার মাঠটাতো তুই দখল করে নিয়েছিস।
আমার জবাব শুনে রাশিক হঠাত চুপ হয়ে যায়। দুজন নীরবে হাটতে থাকি।ইঁদুর দৌড়ে থাকা আরো একজন হর্ন বাজিয়ে ছুটে যায় আমাদের পাশ দিয়ে।
উক্তি

কাচা হাতের লেখা কাচা গল্প ( প্রথম কিস্তি )

তরু মাঝে মাঝে এমন কিছু সময়ের মুখোমুখী দাঁড়ায় । যা মোটেও তরু আশা করে না । তরু সে সময়টাকে মূল্যহীন মনে করে,যে সময়টুককে তরু সব সময় তার জীবনের অমঙ্গলের কাঁটা তারের বেড়াজাল মনে করে এসেছে । ঠিক সেই রকম একটি সময় গত কালকেও এসেছিল তরুর সামনে । একে মনটা বেশি ভালো ছিল না । তার ওপরে শরীরটাও বেশ ক্লান্ত ছিল । যেন শরীর আর মন এক সাথে কন্ট্রাক করে কোমরে শিকল বেঁধে তরুর পেছনে লেগেছিল । সাথে কিছুটা সময় যোগ হয়েছিল জ্বর ।

সিগারেট সাথে আছে মদ এ যেন তরুর বেঁচে থাকার একমাত্র খাদ্য চাহিদা । মানুষের বেঁচে থাকতে যার যার দেশ উপযোগী হিসেবে খাদ্য । যেমন বিদেশীদের প্রধান খাদ্য ফল, বিয়ার, মদ । তাই বাঙালি হিসেবে তরুরও মাছ ভাত প্রধান খাদ্য হওয়া কথা থাকলেও তরুর প্রধান খাদ্য সকালের নাস্টার টেবিলে বিয়ার মদদিয়ে শুরু হয় । আর রাতে ডিনারও ওই সব ছাইপাস দিয়েই শেষ হয় । সিগারেট মদ বেশি পাণ করায় ইদানিং তরুর কাশির মাত্রাটাও দিনকে দিন বেড়ে চলছে । রাতে ডিনার শেষে নিজের রুমে গ্লাসের সামনে নিজেকে দেখে তরু নিজেইযেন তাকে চিন্তে পারছে না । কি হাল হয়েছে গত ‘ক’দিনে । নানান চিন্তা ভাবনায় তরুর খুব বিষন্নটা লাগছে । পেশারটাও যেন বেড়ে যাচ্ছে, দুটি বড়ি একসাথে মেরে দিয়ে হাতে করে একটি গল্পের বই নিয়ে খাটের একটি পাশে দেলান দিয়ে বসলেন । কেবল দুটি লাইন পড়ে তৃত্বিয় লাইনে পড়বে এমন সময় মোবাইল ফোনে রিং বাজতে শুরু করল ।
হ্যালো জি বস ! আহা! তরু অনেক রাত দিস্টাব করার জন্য দুংখীত । না না বস ঠিক আসে,তা ছাড়া আমি এখনো ঘুমোতে যাইনি । কি করছো তরু ? জি বস তেমন কিছু না চোখে ঘুম আসছিল না তাই গল্প পড়তেছিলাম । হ্যা শোন তরু যে কাজে তোমায় এত রাতে ফোন দেওয়া, হাতে নতুন একটি কাজ চেপেছে
কাল সময় করে একবার দেখা করো আমি চাই কাজটি তুমি নিজ হাতে বুঝে নিয়ে নিজেই হ্যান্ডোবার করবে । ওকে বলে তরু মোবাইল রেখে শুয়ে পড়লো ।

হঠাৎ ঘড়ির এলাম বাজতে শুরু করলো । তরু চোখ কচলাতে কচলাতে ঘড়ি দিকে তাকিয়ে সময় দেখে সকাল আটতা বাজে ।
তরু তরিগরি করে নাস্টা শেষ করে চলে যায় শহরের সেই বিখ্যাত পাঁচ তারার হোটেল ড্রিমগাল এতে ৩০৫ নম্বর রুমে ।
রুমে প্রবেশ করেই শুভ সকাল বস । হ্যা শুভ সকাল তরু । এসো বসো । কি খবর তরু শরীরের কি অবস্থা এখন ? তরু নিজের সকল কষ্টকে মনের ভেতরে চাপা রেখে বেশ বড় গলায় বসকে বললো জি বস এইতো আর কি মানুষ হিসেবে যা হয়ে থাকে এই সামান্য কাশি জ্বর ঠান্ডা আর মাঝে মাঝে গায়ে গায়ে জ্বর আবার মাঝে মাঝে কিছু ব্যথা ।
ও তেমন কিছুনা এই দুই চারটি প্যারাসিটিমল নয়তো নাপা এক সাথে গিলে নিই ব্যাস সব ঠিক হয়ে যায় । আমি একেবারেই ঠিক আছি বস ।
বস খুব রাগহয়ে তরুকে বললেন না তরু এটা তোমার ভুল ধারনা । তোমার মিথ্যে কথাগুলো হয়ত তোমার রোগকে পুশে বড় করতে
সাহায্য করবে, কিন্তু ছাড়াতে পারবে না । রোগকে এ ভাবে এড়িয়ে যাওয়ার ফলে কিন্তু মারাক্ত রোগের ঝুঁকিই বাড়ে । কোন সুফল বয়ে আনে না ।
বস তরুর কাধে একটি হাত রেখে কথা বলতে বলতে অফিস রুমের বারিন্দায় যেয়ে দুটি চেয়ার টেনে নিয়ে দুজনে বসলেন । হ্যা তরু তার পর বলো কি খাবে,ঠান্ডা না গরম ?
বুয়াকে দু’কাপ কফি দিতে বলেন । বুয়া কপি দিয়ে চলে গেল ।
কফিতে একটি চুমুক দিয়ে বস তরুকে বলেন তরু তোমাকে আমি যে বিশেষ কাজটির জন্য আসতে বলে ছিলাম টা আমি কিছুদিনের জন্য অফ রাখলাম । আর হ্যা তরু তুমি আজকের রাতেই পর্বত রাঙামাটি চলে যাবে ওখানে তোমাকে আমাদের দলের নতুন সদস্য যার কথা এর আগে একবার তোমাকে বোধ হয় বলেছিলাম
সে মিস সূচনা । সূচনাকে আমি বলে দিচ্ছি তুমি গাড়ি থেকে নামার পরে তোমাকে সে রিসিভ করবে । ওখানে থেকে কিছু দিন বেড়িয়ে পাহার পর্বত ও খোলামেলা বাতাস গায়ে লাগিয়ে ছেড়ে ওঠো তার পর না হয় আবার কাজে ব্যস্ত হয়ে যেয় । ওখানে তোমার থাকার কোন সমস্যা হবে না । সূচনাই তোমার থাকা থেকে শুরু করে চিকিৎসা সকল কিছুর ব্যবস্থা করে দিবে । মেয়েটাও ভারী মিষ্টি তাই আশা করি সব মিলিয়ে ওখানের পরিবেশ তোমার ভালই লাগবে । তরু বসের কথা শুনে বসকে বললো বস না গেলেই কি হয় না । তরুর বস তরুকে বললো তরু তুমি যদি আমার দলে থাকতে চাও তাহলে তোমাকে ওখানে যেতে হবে । কেননা আমি চাইনা কোন অসুস্থ রোগী আমার দলে থেকে আমার আমার দলটিকে অসুস্থ করে তুলুক । ওকে তরু তুমি এখন আসতে পারো । বলে বস তরুকে বিদায় দিলেন । তরু বস তাহলে পর্বত রাঙামাটি বলে বিদায় নিয়ে চলে আসলেন ।

হালকা মাঝারি টাইপের বৃষ্টি পড়ছে । এর ভেতরেই তরুকে গাড়ি থেকে নামতে হবে । কেননা এটাই রাঙামাটি শহরের বাস স্টান্ড ।
তরু গাড়ি থেকে নামলো নামার সাথে সাথে তরুর মোবাইলে একটি ম্যাসেজ যাতে লেখাছিল তরু তুমি চেয়ে দেখ গাড়ি থেকে যেখানে তোমাকে নামিয়ে দিছে তার বাম পাশে বেশি হলে ত্রিশ গজ দূরে নীল জামা লাল জিন্জ পরা চোখে কালো চশমা লাগানো হাতে এক গুচ্ছ রজনী গন্ধা, মাথায় ছাতি দিয়ে একটি সাদা প্রাইভেট কার নিয়ে দাঁড়ানো একটি মেয়ে আছে । মেয়েটির বয়স খুব বেশি হলে ২৩ থেকে ২৪ হবে । উনিই মিস সূচনা । উনার কাছে তুমি যাও উনি তোমার জন্যই অপেক্ষা করতেছেন ।

তরু হাটতে হাটতে গাড়ির সামনে এসে হাজির । তরু সূচনাকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন আপনি মিস সূচনা । সূচনা বললো হ্যা । কিন্তু আপনি ? আমি তরু ! এবার একটি মায়াবী হাসি দিয়ে সূচনা তার হাতের ফুলগুলো দিয়ে তরুকে স্বাগতম জানালেন । সূচনা তরুকে নিয়ে বাঙলয় ফিরলেন । তুরুর রুম দেখিয়ে সূচনা চলে গেলেন তাদের সকালের নাস্টার আয়োজন করতে ।

তরু ফ্রেস হয়ে নাস্টার টেবিলে বসলেন । নাস্টা শেষে তরুকে এক ঝলক মিষ্টি হাসি দিয়ে সূচনা বললেন, আপনি অনেক ক্লান্ত এখন একটু রেষ্ট নিয়ে নিন বিকেল বের হবো আমরা । আজ আমরা প্রথমে ডাক্তার দীপঙ্কর বড়ুয়ার সাথে দেখা করবো । এটা আমার জন্য বসের প্রথম নিদেশ । একথা বলে সূচনা চলে গেল দুপুরের খাবারের আয়োজন করতে । আর তরু তার রুমে যেয়ে খাটে ওপরে শুয়ে বিছানার ওপরে নানান ভাবনা গড়াগড়ির মাঝে ঘুমিয়ে পড়লেন ।

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ২:১৫
উক্তি

প্রিয় নায়ক সালমান শাহ স্মরণে

In response to The Daily Post’s writing prompt: “Cআজ ৬ ই সেপ্টেম্বর। কিছু মনে পড়ছে কি? হ্যা আমি সেই স্টাইল আইকন, বাংলা সিনেমার মহানায়ক ,চিরসবুজ সালমান শাহ এর কথাই বলছি।
আজ তার অকাল প্রয়ান দিবস।

(জন্ম: ১৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ – মৃত্যু: ৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬), বাংলাদেশের ১৯৯০-এর দশকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নায়ক। প্রকৃত নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার এই অভিনেতা সর্বমোট ২৭টি চলচ্চিত্র অভিনয় করেন।


এছাড়াও টেলিভিশনে তার অভিনীত গুটি কয়েক নাটক প্রচারিত হয়। ১৯৯৩ সালে তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত কেয়ামত থেকে কেয়ামত মুক্তি পায়। একই ছবিতে নায়িকা মৌসুমী ও গায়ক আগুনের অভিষেক হয়।

জনপ্রিয় এই নায়ক নব্বইয়ের দশকের বাংলাদেশে সাড়া জাগানো অনেক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

তিনি ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অকালে রহস্যজনক ভাবে মৃত্যুবরণ করেন। অভিযোগ উঠে যে, তাকে হত্যা করা হয়; কিন্তু তার সিলিং ফ্যানে ফাঁসিতে হত্যাকান্ডের কোনো আইনী সুরাহা শেষ পর্যন্ত হয়নি।
উনার স্বাক্ষরঃ


——————
ছোট থেকে সালমান শাহ এর ছবির সাথে পরিচয় আমার বড় ভাইয়ের কল্যানে। তবে যতদিনে আমার ছবি দেখার জ্ঞান হয়েছে ততদিনে এই মহা নায়ক পরপারের পথে পারি জমিয়েছেন। তার মোটামুটি সব সিনেমাই দেখা হয়েছে। ভাইয়া আমাকে পরীক্ষা শেষ হবার পর পর ই নিয়ে দেখত।তখন ছিল ভি সি আর এর যুগ। আমি আর ভাইয়া স্কুলের সাময়িক পরীক্ষা গুলো শেষ করেই হা করে গিলতাম উনার সিনেমা গুলো –
কেয়ামত থেকে কেয়ামত
তুমি আমার
অন্তরে অন্তরে
সুজন সখী
বিক্ষোভ
স্নেহ
প্রেম যুদ্ধ
দেন মোহর
কন্যাদান
স্বপ্নের ঠিকানা
আঞ্জুমান
মহা মিলন
আশা ভালবাসা
বিচার হবে
বুকের ভিতরে আগুন ইত্যাদি ইত্যাদি অনেক ছবি। নিচে উনার অভিনীত চলচ্চিত্রের লিস্ট দেয়া হল


সালমান শাহ এর অভিনীত নাটক সমূহঃ
পাথর সময়
ইতিকথা
আকাশ ছোঁয়া
দোয়েল
সব পাখি ঘরে ফেরে
সৈকতে সারস
নয়ন
স্বপ্নের পৃথিবী


এখনো মাঝে মাঝে শুনি তার সেই সিনেমার গান -“ভালো আছি ভালো থেকো”
বাংলা ফ্লিম ইন্ডাস্ট্রি এখনো উনার এই অভাব পূরন করতে পারে নাই। আর কোন সালমান শাহ কখনো আসবে কি না তাও জানা নেই।

তবে এই স্টাইল আইকন রয়ে যাবেন আমাদের হৃদয়ে যুগে যুগে অমর হয়ে । জানি না কখনো তার এই হত্যাকান্ডের সুরাহা হবে কিনা, তবে বার বার বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিধ্বনিত হবে “সালমান শাহ একজনই”
তথ্য সুত্রঃ উইকিপিডিয়া onnected.”

গ্যালারি

কলিযুগের রামরাজত্ব এবং খলনায়কদের তাণ্ডব

গোলাম মাওলা রনি

ছোটকালে নানী-দাদীর কাছে বসে রূপকথার গল্প শুনতাম। গল্প বলতে গিয়ে তারা রূপকথার রাজা-রানী, রাজকুমার-রাজকুমারী, উজির-নাজির কোতোয়ালের কাহিনী শোনাতেন এবং প্রসঙ্গক্রমে জল্লাদের কাহিনীও বলতেন। এসবই ছিল অতীত আমলের ঘটনা। তারা মাঝে মধ্যে দৈত্য-দানব, জিন-পরী, ভূত-পেত্নী এবং পিশাচের গল্প বলতেন। আর বলতেন কলিযুগের কল্পকাহিনী। নানী-দাদীদের মতে, কলিযুগে যেখানে সেখানে বাজার বসবে, এমনকি বেগুন গাছের তলাতে হাট বসবে। নারীরা বাজার-সদাই করবে, সমাজ থেকে মায়া-মমতা, মানসম্মান, ইজ্জত-আব্রু ওঠে যাবে। এক চোখের দজ্জাল পথে মাঠে ঘুরে বেড়াবে, পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা বেড়ে যাবে। বেহায়া নারীরা পুরুষদের ইজ্জত মারবে আর পুরুষ জাতি নারীদের ভয়ে থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে কাপড় চোপড় নষ্ট করবে। আমরা বলতাম ও বু (দাদী) ও নানী। কাপড় চোপড় কিভাবে নষ্ট করবে। তারা বলত- ভয়ের চোটে গোয়া গালাইয়্যা দিবে। আমরা আবার জিজ্ঞাসা করতাম- কলিযুগ কি? তারা বলতেন, কলিযুগ হলো শেষ জামানা। কেয়ামত হওয়ার আগে যে জামানা আসবে তাকেই কলিযুগ বলা হবে।

কলিযুগের সাম্প্রতিক অবস্থা এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার আগে রামরাজত্ব সম্পর্কে কিছু বলে নিই। হিন্দুদের দেবতা রাম প্রথম জীবনে ছিলেন একজন রাজপুত্র। পরবর্তীতে তিনি রাজা হন। রামায়ণ নামক মহাকাব্যের তিনি হলেন মহানায়ক। তার রাজত্ব, জীবনযাত্রা এবং অলৌকিত্ব নিয়ে রয়েছে হাজারও উপাখ্যান। হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান দেবতা বা প্রধান ভগবানের নাম বিষ্ণু। রামের পিতা রাজা দশরথ ছিলেন দেবতা বিষ্ণুর সপ্তম অবতার। অর্থাৎ বিষ্ণু সপ্তমবারের মতো দেহ ধারণ করে দশরথ রূপে এ পৃথিবীতে এসেছিলেন। দশরথ, তার স্ত্রী কৈকী, পুত্র রাম-লক্ষণ এবং পুত্রবধূ সীতা হিন্দু পৌরাণিক ইতিহাসের কিংবদন্তি রূপে পুজিত হয়ে আসছেন সেই অনাদিকাল থেকে। রামের রাজত্বকালকে হিন্দুরা এ দুনিয়ার সর্বোত্তম শাসনামল বলে বিশ্বাস করে। কালের বিবর্তনে রামের রাজত্ব বা রামরাজত্ব শব্দটির অপভ্রংশ মন্দ অর্থে ব্যবহৃত হয়। ইদানীং রামরাজত্ব বলতে বোঝায় স্বৈরাচারের খামখেয়ালীপনা, অত্যাচার, অনাচার, জুলুম এবং ব্যভিচারে ভরপুর এটি শাসনামল। এটাকে আপনারা কলিকালের রামরাজত্বও বলতে পারেন, যেখানে ন্যায়ের পরিবর্তে অন্যায়, বিচারের পরিবর্তে অবিচার, আমানতের পরিবর্তে খেয়ানত, বিশ্বাসের পরিবর্তে অবিশ্বাস, সম্মানের পরিবর্তে অপমান, মর্যাদার পরিবর্তে লাঞ্ছনা, প্রশংসার পরিবর্তে ভর্ৎসনা, ভালোবাসার পরিবর্তে ঘৃণ্য এবং শাসনের পরিবর্তে জুলুম এবং অত্যাচার শাসক গোষ্ঠীর অলঙ্কার হিসেবে আত্দপ্রকাশ করে।

রামরাজত্বের আদিরূপ এবং কলিযুগ সম্পর্কে কিছু তথ্যকথা বলা হলো। চলুন এবার কলিযুগ সম্পর্কে আমার নানী-দাদীর গল্পের ব্যাখ্যায় চলে যাই। ছোটবেলায় আমি বুঝতাম না- বেগুনতলায় হাট কিরূপে বসতে পারে। আমাদের গ্রামটি কৃষিনির্ভর হলেও বাণিজ্যিকভাবে সত্তর দশকের শুরুতে বেগুন চাষ হতো না। গৃহস্থ বাড়ির গিনি্নরা বাড়ির আঙিনায় দুই-চারটা বেগুন গাছ লাগাতেন পরিবারের তরকারির চাহিদা মেটানোর জন্য। সেসব বেগুন গাছের উচ্চতা দুই-তিন ফুটের বেশি হতো না। অন্যদিকে আমার নানাদের গ্রামে শত শত বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে বেগুন চাষ হতো। নানারা ছিলেন অতীব সঙ্গতিপূর্ণ বনেদি কৃষক পরিবার। একেকজন নানার ছিল শত শত বিঘা কৃষিজমি। সেসব জমির মধ্যে অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে বেগুন চাষ করা হতো। দশ-বারো বিঘার একেকটি বেগুন ক্ষেতে হাজার হাজার বেগুন গাছ থাকত। আমি সেই বাগানে হাঁটতাম এবং ভাবতাম এত ছোট গাছের নিচে কলিযুগে কিভাবে বাজার মিলবে এবং কেন মিলবে। অন্যদিকে আমার মাথায় এ চিন্তাগুলো ভীষণভাবে ঘুরপাক খেত এবং আমি ভেবে পেতাম না মেয়েরা কিরূপে হাটবাজারে যাবে এবং গেলে কী এমন মহাভারত অশুদ্ধ হবে। তাছাড়া যেখানে সেখানে অর্থাৎ পথেঘাটে বাজার বসলেই বা ক্ষতি কি? আমার ছেলেবেলায় গ্রামগঞ্জে হাটবাজার বসত সপ্তাহে একদিন। একেকটি বাজার থেকে অন্য বাজারের দূরত্ব ছিল সাত-আট মাইল। বাজারের সব দোকানপাট ছিল ভাসমান। অর্থাৎ দোকানদাররা তাদের পণ্যসমূহ নৌকা, ঘোড়ার গাড়ি, গরুর গাড়ি কিংবা মাথায় করে নির্দিষ্ট দিনে হাটে নিয়ে যেত। বেচাকেনা শেষে আবার যার যার বাড়িতে অবিক্রীত মালামাল নিয়ে ফিরে আসত। বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতা, দালাল, ফড়িয়া, মহাজন, শ্রমিক, ঝাড়ুদার সবই ছিল পুরুষ। কোনো মহিলা বাজারে যাবেন এমন কথা আমরা স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারতাম না। অন্যদিকে সংসারে পুরুষদের কর্তৃত্ব ছিল সীমাহীন। সংসারের কর্তা বা কোনো মুরব্বির সঙ্গে মহিলারা ঝগড়া করবে এটা ওই আমলে কেউ কল্পনাও করেনি। কাজেই মহিলাদের ভয়ে পুরুষরা কাপড় চোপড় নষ্ট করবে এ কথা শুনে আমরা খুব মজা পেতাম। আমার নানা ছিলেন ভীষণ রাগী এবং কড়া প্রকৃতির মানুষ। তার দাপটে বাঘে মোষে এক ঘাটে পানি খেত। আমরা নাতিরা পর্যন্ত তার ধারে-কাছে যেতে সাহস পেতাম না। নানার ছিল চমৎকার একটি র্যালি ব্র্যান্ডের সাইকেল, মারফি ব্র্যান্ডের রেডিও, ওমেগার ঘড়ি, লম্বা নলওয়ালা পিতলের হুঁকা, চা খাওয়ার জন্য দুষ্পাপ্য প্রেসার কুকার, মক্কা শরিফের জায়নামাজ-টুপি পাগড়ি এবং অনেকগুলো গল্পের বইসহ ওই আমলের বাহারি সব বিলাস সামগ্রী। আমার ইচ্ছা হতো প্রত্যেকটি জিনিস ছুঁয়ে দেখতে এবং একটু আধটু ব্যবহার করতে। কিন্তু নানার ভয়ে আমি কোনো দিন ওইগুলোকে স্পর্শ করার সাহস পাইনি। কাজেই সেই নানা কলিযুগে নানীর ভয়ে গুয়া গালাইয়্যা দিবে এমন কথা ভাবতে আমি বড়ই মজা পেতাম।

শিরোনামের দুটি শব্দ অর্থাৎ কলিযুগ এবং রামরাজত্ব সম্পর্কে সামান্য আলোচনা করলাম। এবার অন্য আরেকটি শব্দ অর্থাৎ খলনায়ক সম্পর্কে কিছু বলে মূল আলোচনায় চলে যাব। মূল আলোচনা মানে- ইদানীং মানবরূপী দানবদের তাণ্ডব সম্পর্কে কিছু আলোচনা। খলনায়ক শব্দটি প্রমিত বাংলার একটি ভদ্রচিত রূপ। ইংরেজিতে একে বলা হয় ভিলেন। সেসব লোক সমাজের নেতৃস্থানীয় ভালো মানুষটির ভালো এবং জনকল্যাণকর কাজে বাধার সৃষ্টি করে এবং নিজেদের সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে নানারকম অত্যাচার, অবিচার, অনাচার, অহংকার মিথ্যাচার, নির্যাতন প্রভৃতি অমানবিক কাজকর্ম দ্বারা সামাজিক পরিবেশ দুর্বিষহ করে তোলে তাদের ভিলেন বলা হয়। আঞ্চলিক বাংলায় এলাকা ভেদে ভিলেনদের একেক এলাকার মানুষ একেক নামে ডাকে। কেউ বলে- জাউরা ব্যাডা, কেউ বলে খাটাশ, আবার কেউ বলে শয়তানের বাচ্চা শয়তান।

কলিযুগের রামরাজত্বে ভিলেনদের কল্যাণে বেগুন গাছের নিচে হাট বসবে এবং এক চোখের দজ্জালের আগমন ঘটবে- এমনতরো গল্পের মধ্যেও রয়েছে অন্তর্নিহিত তাৎপর্য। দজ্জালের আগমন এবং তার এক চোখের কাহিনীর চমৎকার একটি ব্যাখ্যা। আমি পড়েছিলাম আল্লামা আবুল আসাদ রচিত বিখ্যাত বই ‘A Road to Macca’তে। আল্লামা আসাদ হুজুরেপাক (সা.) কর্তৃক বর্ণিত দজ্জালের ঘটনাটি ব্যাখ্যা করেছেন রূপক অর্থে। তার মতে দজ্জাল কোনো ব্যক্তি নয়- বরং একটি সমাজের বিশেষ শ্রেণির মানুষকে বোঝাবে যারা আকার আকৃতিতে মানুষ হলেও চিন্তা-চেতনা এবং কর্মে সব নিকৃষ্ট পশুদেরও ছাড়িয়ে যাবে। তাদের হিংস্রতা হায়েনাদের চেয়েও ভয়ঙ্কর হবে। তাদের নোংরামি এবং অশ্লীলতা দেখে শুয়োরকুল আফসোস করবে। তাদের স্বার্থপরতা, স্বজাতিবিদ্বেষী মনোভাব এবং অকারণে হাঁকডাক করার অভ্যাস দেখে কুকুর শ্রেণি লজ্জায় জনপদ ত্যাগ করে বনবাদাড়ে চলে যাবে। তাদের লোভলালসা এবং চুরি করার বিদ্যার বহর দেখে শিয়াল, শকুন ও খাটাশজাতীয় প্রাণীরা অনুশোচনা করতে করতে মারা যাবে। তাদের দুর্বুদ্ধি দেখে শয়তান উল্টো আল্লার দরবারে পানাহ চেয়ে বলবে- ইয়া আল্লাহ! ওদের থেকে আমাকে রক্ষা কর। অন্যদিকে দজ্জালের এক চোখ বলতে একশ্রেণির মানুষের বিবেকহীন, অমানবিক এবং নিষ্ঠুর স্বার্থপরতাকে বুঝানো হয়েছে। এ শ্রেণির মানুষ নিজেদের ক্রোধ এবং স্বার্থের জন্য গর্ভধারিণী মাকে নির্যাতন করতে কুণ্ঠাবোধ করবে না- পিতাকে গলাধাক্কা দিতে গর্ববোধ করবে। অন্যদিকে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য নিজের স্ত্রী বা কন্যাকে পর পুরুষের হাতে সমর্পণ করে এরা প্রশান্তি লাভ করবে।

২০১৫ সালের এ সময়টা কলির কাল নাকি অন্য কিছু সে বিষয়ে আমি কিছু বলব না। সম্মানিত পাঠকরাই সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে দেশ-কাল-সমাজ-সংসার এবং পরিবারে এমন সব ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে যে, মানুষ দিনকে দিন দিশাহারা হয়ে পড়ছে। রাস্তাঘাটে চলতে ফিরতে এখন আর নায়ক শ্রেণির কোনো মানুষকে দেখা যায় না। যার একটু শক্তি বা সাহস আছে কিংবা যার হাতে সামান্য একটু রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা আছে সেই লোকটি নিজেকে নায়ক বানানোর পরিবর্তে খলনায়ক বানানোর প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়ার জন্য প্রাণান্ত চেষ্টা করছে। এখন জনগণ কাউকে নেতা বানাতে পারে না। খলনায়করা নিজেরাই নিজেদের নেতা বানায় এবং লোকজনকে বাধ্য করে তাদের নেতা হিসেবে সমীহ করার জন্য। জনগণ এখন আর কোনো তথাকথিত নেতাকে সম্মান করে না। বরং ভয় করে। তারা গর্ব করে বলতে পারে না- ওমুক নেতাটি সৎ এবং সত্যবাদী, তারা অবাক বিস্ময়ে খলনায়কদের দিকে তাকায় এবং মনে মনে চিন্তা করে আহা! ওরা এত মিথ্যা কথা বলে কিরূপে?

কলিযুগের হাটবাজার, ফুটপাথ, গণশৌচাগার, কৃষিজমি, জনপদ, লোকালয়, গ্রাম, শহর, স্কুল, কলেজ, অফিস-কাচারি, নদী-নালা, খাল-বিল সাগরতীর এবং উপকূল বনভূমি, রাজপথ প্রভৃতি সবকিছুকে আলাদা আলাদা রাজ্য বানিয়ে খলনায়করা সেখানে তাদের রাজরাজত্ব কায়েম করেছে। এসব রাজ্যের প্রজারা দজ্জালরূপী খলনায়কদের আতঙ্কে সারা দিন আল্লাহ আল্লাহ জিকির করে। ফলে পাড়া-মহল্লায় মসজিদগুলোতে হঠাৎ করেই লোকজনের উপস্থিতি বেড়েছে। সামাজিকতার বন্ধন দিনকে দিন আলগা হয়ে যাচ্ছে। মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছে না- এমনকি লোকজনের চিন্তার জগৎকে নিয়ন্ত্রণ করার নানা ফন্দি-ফিকির চলার কারণে কেউ আর স্বাধীন চিন্তাভাবনা করছে না। সমাজে বিচারহীনতার সংস্কৃতি স্থায়ীরূপে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে। চাকরগুলো সব মনিবের দায়িত্ব পালন করছে এবং মনিবরা চাকর হওয়ার জন্য পাগলামো করছে। রক্ষকরা ভক্ষকরূপে আবির্ভূত হয়েছে- আমানতদার খেয়ানত করে উল্লাস নৃত্য করছে এবং মূর্খরা সব শিক্ষক হয়ে জ্ঞানের প্রদীপ নিভিয়ে দিয়ে ব্যভিচারের কলাকৌশল শিক্ষা দিচ্ছে।

আমরা আজকের প্রসঙ্গের একদম শেষ প্রান্তে চলে এসেছি। কলিকালে বেগুনতলায় হাট মিলবে এ কথাটি সম্পর্কে আমার বক্তব্য পেশ করে লেখার ইতি টানব। প্রাচীনকালে বৃহৎ কোনো বটবৃক্ষের তলায় কিংবা নদীতীরে হাট বসত। বেগুনতলায় হাট বলতে গোপন বেচাকেনা ক্রেতা-বিক্রেতাদের সংকীর্ণতা, দুর্বলতা, নীচুতা এবং অব্যবসায়ীসুলভ মনমানসিকতা এবং আচরণকে বোঝানো হয়েছে। সেই অর্থে কলিকালের খলনায়করা ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবর্তে চোরাকারবার শুরু করবে। পণ্য কেনাবেচার চেয়ে অন্যের জিনিস জোর করে ছিনিয়ে নেওয়া বা লুট করাকে কর্তব্য বলে মনে করবে। প্রকাশ্য স্থানে এসব করার সুযোগ না থাকায় তারা সংকীর্ণ এবং অন্ধকারময় স্থানকে বেছে নেবে অনেকটা বেগুনগাছের তলার জায়গাটির মতো যেখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো সম্ভব নয়- আরাম করে বসাও সম্ভব নয় কিংবা শুয়ে থাকাও সম্ভব নয়। তবে অন্ধকার রাতে কোনো চোর জড়োসড়ো হয়ে বেগুনগাছের তলায় ইচ্ছা করলে লুকিয়েও থাকতে পারে…।

তথ্যঃ

গ্যালারি

আমাদের রয়েল বেঙ্গল টাইগাররা স্বপ্নের ফাইনালে পৌঁছে গেল ।


অভিন্দন বাংলাদেশ ফুটবল টাইগারদের ।
খেলার শুরু থেকেই হাজার হাজার দর্শকের গর্জন বাংলাদেশ বাংলাদেশ । ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মাঠের খেলায় যেমন দাপুটে ছিল বাংলাদেশ সমর্থকদের তেমন গর্জনেও ছিল সেই দাপট । মাঠের খেলা আর গ্যালারির গর্জনের যুগলবন্ধনে পরাস্ত হল বিপক্ষ আফগানিস্তান । দুরন্ত সাদ উদ্দিনের মহাকাব্যিক এক গোলে প্রথমবারের মতো সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশ । এ যেন আমাদের জন্য এক ঐতিহাসিক বিজয় । আগামীকাল ভারতের বিপক্ষে শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশের ফুটবল টাইগাররা । সকলের কাছে আমাদের প্রিয় টাইগারদের জন্য দোআ প্রাথনা কামনা করছি ।

গ্যালারি

বুর্জ খলিফা বর্তমান পৃথিবীর সব থেকে উচ্চু অট্টালিকা

বুর্জ খলিফা বর্তমানে পৃথিবীর সব থেকে উচ্চু অট্টালিকা । এই অট্টালিকাটি ২০১০সালের ৪ঠা জানুয়ারী তারিখে উদ্বোধন করা হয় ।এই অট্টালিকাটি আরব আমিরাতের দুবাই শহরে অবস্থিত । এটি দুবাই টাওয়ার নামেও পরিচিত হলেও এটিকে নির্মাণকালে এর বহুল প্রচারিত নাম ছিল বুর্জ দুবাই পরে এটিকে উদ্বোধনের সময় নাম চেন্জ করে বুর্জ খলিফা রাখেন ।
এই অট্রালিকাটি উচ্চতা প্রায় ৮১৮ মিটার বা ২,৭১৭ ফুট যা রোড মাপে প্রায় আধা মাইল । এই অট্রালিকাটি তাইওয়ানের তাইপে ১০১ টাওয়ার থেকে ১০০০ ফুটেরও বেশী উচু টাওয়ার । ভবনটির উচ্চতা ১৬৬৭ ফুট । ২০০৪ সাল থেকে ২০০৯ পযন্ত পর্যন্ত এই টাওয়ারটিই ছিল পৃথিবীর সব থেকে উচ্চতম স্থাপনা । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে অবস্থিত উইলিস টাওয়ারটি ১ ৪৫১ ফুট উঁচু । বুর্জ খলিফা টাওয়ারটি এতই উঁচু একটি ভবন যে নিচতলা আর সর্বোচ্চ তলার মধ্যে তাপমাত্রার পার্থক্য প্রায় ১০ ডিগ্রী সেলসিয়াস ।
টাওয়ারটির কিছু বৈশিষ্ট্য দেওয়া হলো ।
বুর্জ খলিফার টাওয়ারটি নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০০৪ সালে আর এটির কাজ শেষ হয় ২০০৯ সালে । এটি তৈরীতে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করতে হয় । এর বহিপ্রাঙ্গনে অবস্থিত ফোয়ারা নির্মাণেই ব্যয় হয়েছে ১৩৩ মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড । এই ভবনে ১০৪৪টি বাসা বা এপার্টমেন্ট আছে । ১৫৮তলায় আছে একটি মসজিদ ৪৩তম এবং ৭৬তম তলায় আছে দুটি সুইমিং পুল । আরো আছে ১৬০ কক্ষবিশিষ্ট একটি হোটেল । ১২৪তম তলায় দর্শকদের জন্য প্রকৃতি দর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে । এই টাওয়ারটির সংস্থাপিত কোনো কোনো লিফটের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ মাইল । ২০০৪ খ্রিস্টাব্দে শিলান্যাসের পর থেকে অতি দ্রুত নির্মাণ কাজ অগ্রসর হয়েছে । এমনো দিন গেছে যে দিন ১২ হাজার নির্মাণ কর্মী একযোগে নির্মাণ প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত ছিল । সে সময় প্রতি তিন দিন পর পর একটি ছাদ তৈরি করা হয়েছে ।
তলা বিন্যাস
অট্রালিকাটি কোন তলা কোন কাজে ব্যবহার ।
১৬০–২০৬ কারিগরি
১৫৬–১৫৯ যোগাযোগ ও সম্প্রচার
১৫৫ কারিগরি
১৩৯–১৫৪ কর্পোরেট স্যুট
১৩৬–১৩৮ কারিগরি
১২৫–১৩৫ কর্পোরেট স্যুট
১২৪ পর্যবেক্ষণাগার
১২৩ স্কাই লবি
১২২ এট.মোসফিয়ার রেস্টুরেন্ট
১১১–১২১ কর্পোরেট স্যুট
১০৯–১১০ কারিগরি
৭৭–১০৮ আবাসিক
৭৬ স্কাই লবি
৪৪–৭২ আবাসিক
৪৩ স্কাই লবি
৪০–৪২ কারিগরি
৩৮–৩৯ আরমানি হোটেল স্যুট
১৯–৩৭ আবাসিক
১৭–১৮ কারিগরি
৯–১৬ আরমানি বাসস্থান
১–৮ আরমানি হোটেল
নিচতলা আরমানি হোটেল
খোলা স্থান আরমানি হোটেল
বি১–বি২ পার্কিং, কারিগরি

তথ্য
“Official Opening of Iconic Burj Dubai Announced”

এই গল্পটি প্রিয় গল্পকার হাসান মাহবুব ভাইয়ের লেখা ।

মিঠিকে আমি ভালোবাসি । ওর বুকে বকুলফুলের গন্ধ আছে । ওর ঠোঁটে কামরাঙা ফলের সুবাস । যতবারই আমি কামজর্জরিত হয়ে ওর রাঙা ঠোঁটে ঠোঁট রেখেছি, ততবারই আবিষ্কার করেছি এক নতুন বোধ, আনকোরা অনুভূতি, যা প্রেম কাম দেহ মন সবকিছুর ঊর্ধে এক নতুন মাত্রা সৃষ্টি করে, যা সময়, সমাজ, বিজ্ঞান, সাইকোলজি, ফিজিক্স, মেডিকেল, রসায়ন কোনো কিছু দিয়েই ব্যাখ্যা করা যায় না । চুম্বন আর চুম্বক যেন দুই জমজ বোন, হাত ধরাধরি করে বসে থাকে । একে অপরের থেকে বিযুক্ত করা খুব কঠিন । মিঠির চুলে হাসনাহেনার গন্ধ আছে । হাসনাহেনার গন্ধে নাকি সর্পজাতি খুব প্রলুদ্ধ হয় । আমি মিঠির চারপাশে অনেক সর্প দেখি । ওরা চায় মিঠির চুলের গহীন অরণ্যে বসবাস করতে । ওরা চায় হাসনাহেনার তীব্র সুবাসে মাতোয়ারা হয়ে চল্লিশ কোটি বছর উন্মাতাল নাচতে । চাইলেই হলো আর কী! আমি মিঠিকে উপহার দেই কার্বলিক এসিড । ও তা নিয়ম করে চুলে মাখে । বিষাক্ত সরিসৃপের দল তিরোহিত হয় । মিঠির নাকটা গ্রিক দেবীদের মতো খাড়া । একটু ছুঁয়ে দিলেই তা রক্তের উচ্ছাসে প্লাবিত হয়ে লালচে বর্ণ ধারণ করে । আর তখন হাজার জোনাকপোকা তাদের ঝোপঝাড় থেকে উঠে এসে আলোকআদর জানায় তাকে । আর তার চোখ! তার এক ফোঁটা অশ্রূ ধারণ করে মহাসাগরের বিশালতা । সেখানে আমার অবাধ সন্তরণ । ওর চোখের গভীরে ডুবে যেতে যেতে যেতে আমি আহরণ করি কিছু নিঃসঙ্গ , বিষাদাক্রান্ত শঙ্খ । শঙ্খের হাহাকার চোখে নিয়ে দুঃখবিলাসী মেয়েটা যখন আমার দিকে তাকায়, আমি তখন উদভ্রান্ত বোধ করি । আমার তখন ভীষণ তেষ্টা পায় । ইচ্ছে করে ওকে কাঁদিয়ে ওর নোনাজল পান করে তৃষ্ণা মেটাই । এমন পিপাসা আমার! কিন্তু মিঠি সহজে কাঁদে না । বড়জোর অশ্রুতে টলমল করে চোখ । আর আমি দেখে নেই সে চোখের মাঝে একটা মাছরাঙা পাখি শিকারের অপেক্ষায় তার অশ্রুজলে ডুবে থাকা বিষাদী ডুমুর। মিঠি এমনই। ওর চোখ, নাক, ঠোঁট, চুল সবখানেই ছুঁয়ে থাকে প্রকৃতিমাতার স্নেহ। ওকে জড়িয়ে ধরলে, চুম্বন করলে ও একটা লতানো গাছের মতো নরম হয়ে পেঁচিয়ে রাখে আমাকে। আমি তখন শিউলি, বেলি, হাসনাহেনা, গোলাপ প্রভৃতি ফুলের সুবাসে মোহগ্রস্ত হয়ে পড়ি। তখন সর্প, মাছরাঙা এবং বিবিধ প্রাণীরা নিজেদেরকে প্রত্যখ্যাত জেনে সরোষে প্রস্থান করে। মিঠি, আমার প্রেমিকা তার খোঁপায় আমি গুঁজে দিয়েছি নক্ষত্রফুল।

মিঠির জন্যে অপেক্ষা করে আছি আমি। আজ বিকেল পাঁচটায় ওর এখানে আসার কথা। আমি একটু আগেই চলে এসেছি। অপেক্ষা করতে খারাপ লাগে না আমার। সপ্তাহের একটা দিন আমরা আমাদের সীমিত আয়ের কিছু অংশ ব্যয় করে রিকশায় চড়ে ঘুরি, সিনেমা দেখি, আর ভালোমন্দ কিছু খাই। এই দিনটায় আমরা ভুলে যাই নাগরিক জীবনের ক্লেশ এবং ক্লান্তি, ক্যারিয়ার গঠনের ইঁদুর দৌড়, সবরকম দায়বদ্ধতা, এবং ভবিষ্যতের চিন্তা। এসব ভাবতে ভাবতে আনমনা হয়ে গিয়েছিলাম, তাই মিঠি যখন আমার পেছনে দাঁড়িয়ে দু হাত দিয়ে আমার চোখ ঢেকে জিজ্ঞেস করলো “বলোতো আমি কে?” তখন তার আগমনঘটিত আনন্দে মনটা উড়ুউড়ু হলেও আমি কৃত্রিম গাম্ভীর্য বজায় রেখে বললাম “জানি না”। তারপর কিছু দুষ্টুমি, কিছু খুনসুটির পরে আমরা এই বিকেল থেকে সন্ধ্যার পরিকল্পনা ঠিক করে ফেলি। প্রথমে রিকশায় ভ্রমণ। ঘন্টাচুক্তিতে রিকশা ভাড়া করে শহরের এমাথা থেকে ওমাথা। মিঠি আমার পাশে বসে আছে। ওকে এক হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরি আমি। আমার ভেতরে একটা খরস্রোতা পাহাড়ী নদীর ঢেউ ঝাপটা মারতে থাকে। ওরা আমাকে বলে, “আরো নিবিড়, আরো ঘনিষ্ঠ হও। স্রোতের তোড়ে সব ভাসিয়ে নিয়ে যাও! চুম্বন করো, হাত ধরো, ওকে পিষে ফেলো, আঁকড়ে ধরো ও তোমার, শুধুই তোমার!”। কথাগুলো আমার বেশ পছন্দ হয়, তবে এই হুডখোলা রিকশায় জনবহুল স্থানে তা সমাধা করতে আড়ষ্ট লাগে। তাই ওসব অন্য কোন সময়ের জন্যে গচ্ছিত রাখি। হাত ধরে থাকি, এতেই অঢেল সুখ।
-কী ভাবছো? মিঠি সুধোয় আমাকে।
– ভাবছি আজকে কোথায় এবং কী খাবার খাওয়া যায়। ক্ষিধে লেগেছে বেশ।
-আমারও। চলো আমরা মতিঝিলে নতুন একটা হোটেল খুলেছে “ফিলিস্তিন বিরিয়ানি” সেখানে যাই।
ফিলিস্তিনের বিরিয়ানি! চলো, চেখে দেখা যাক!
বিরিয়ানি খেতে খেতে আজ কি সিনেমা দেখবো সেটা নিয়ে আলোচনা করি।
-এ্যান্ট ম্যান দেখবা? বসুন্ধরা সিনেপ্লেক্সে চলছে।
-থ্রিডি?
-হ্যাঁ থ্রিডি।
-চলো তবে দেখা যাক!
মতিঝিল থেকে বসুন্ধরা। বেশ অনেকটা পথ। এবার আর রিকশায় নয়, ট্যাক্সি ক্যাবে। ব্যস্ত রাস্তার কোলাহলে তেমন কথা বলা হয় না। শুধু দুজনের বসে থাকা হাত ধরে। আমি হারিয়ে যাই সুখভাবনার অন্তরমহলে। এই যে শাহরিক ব্যস্ততা, বাসে ওঠার জন্যে কুস্তি করা, কন্ডাকটরের সাথে ভাড়া নিয়ে ক্যাচাল, ট্রাফিক জ্যাম, ব্যাংক একাউন্ট খোলো, টাকা জমাও, ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা নিয়ে পীড়ন, এর মাঝে আমাদের সপ্তাহান্তের ডেটিং যেন নিকষ কালো গহবরের মাঝে এক চিলতে আলো। এই যে হাত ধরা, এই যে নাও শোবার জন্যে আমার কাঁধ, দাও তোমার ঠোঁট, নাও আমার চুমু, দাও আমায় হাসনাহেনার সুবাস, দাও আমায় শিউলি ফুলের ঘ্রাণ, কত কীই না দেবার আছে তোমার! আর আমারও পাওয়ার জন্যে কী ভীষণ কাঙালপনা! সপ্তাহের একটা দিন, এই একটা দিন তোমার সকল রহস্য উন্মোচিত করো আমার কাছে। তাও কি সবটা পাওয়া যায়? কখনও তোমার চুলে হাসনাহেনার সুবাস, আবার কখনও তা পরিবর্তিত হয়ে রজনীগন্ধা। কখনও তোমার ঠোঁটে কমলালেবুর মিষ্টতা, আবার কখনও স্ট্রবেরি আইসক্রিমের ফ্লেভার। এই একটা দিন, একটা দিনে তোমাকে মনে হয় সদ্য কলেজে ওঠা চপলা তরুণীর মতো, যে প্রথমবার প্রেমিকের সাথে দেখা করতে এসে লজ্জায়, উত্তেজনায় লালাভ হয় নিয়মিত বিরতিতে। যার সংকোচ জড়ানো তিরতির করে কাঁপা হাত জানান দেয় ভালোবাসা কী ভীষণ জীবন্ত এখনও! মিঠি, তোমার লাজনম্র মুখাবয়বে রচিত হয় ভালোবাসার পরিশূদ্ধ ইশতেহার। আমি যার মুগ্ধ পাঠক এবং রচয়িতা। এই একটা দিনে তুমি তেল ঝাল নুন কর্কশ কটূ পটু মানবী থেকে ভালোবাসার নরম আবরণে জড়ানো একটা লাজুক পরীতে রূপান্তরিত হও। আহা! সত্যিই যদি তোমার ডানা থাকতো, কী ভালোই না হতো! আমরা হারিয়ে যেতাম মহাবিশ্বের অনন্ত অম্বরে, ভালোবাসার উচ্চতম মন্দিরে। সিনেমা হলের কাছাকাছি এসে গেছি আমরা। কিন্তু আমার কেন যেন আজ সিনেমা দেখতে ইচ্ছে করছে না। সেলুলয়েডের ত্রিমাত্রিক জগতের ধুন্ধুমার মারপিট, এ্যাকশন,স্পেশাল এফেক্ট এর চেয়ে মিঠির সাথে ঘাসের বিছানায় বসে গল্প করাটাই শ্রেয় মনে হচ্ছে। ট্যাক্সি থেকে নামার পর মিঠি কেমন যেন উশখুশ করতে লাগলো।
-কী হয়েছে?
সুধোলাম আমি।
-পিঠের কাছে কেমন যেন অস্বস্তি লাগছে। মনে হচ্ছে কিছু একটা ফুঁড়ে বের হবে। ব্যথা করছে। আমি চিন্তিত মুখে তার পিঠে হাত রাখলাম। আশ্চর্য! সত্যিইতো কিছু একটা বের হবে বলে মনে হচ্ছে। হঠাৎ করে সেটা ভীষণ নড়াচড়া শুরু করলো। পোষাক ফুঁড়েই বের হবে,এমনই তার রোষ! ব্যাপারটা কী! আরে! আরে!! আরে!!! এ তো দেখছি সত্যিকারের ডানা! কিছুক্ষণ আগেই ভাবছিলাম এমন কথা।আমার অবচেতন মনের এই স্পর্ধিত আকাঙ্খা যাবতীয় বিজ্ঞান আর নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে চলে এসেছে আমাদের এই ধূলোমাটির জগতে। ঈশ্বরের এই অপ্রত্যাশিত উপহারে আমরা যুগপৎ আনন্দিত, বিস্মিত, এবং বিব্রত হতে থাকি। আশেপাশের মানুষেরা কারো কোন বিকার নেই। যেন এমন ঘটনা নিত্যনিয়মিতই ঘটে। নাকি তারা দেখতেই পাচ্ছে নাপ্রকৃতির এই টুকরো খেয়ালিপনা? মিঠি তখন প্রাথমিক অপ্রস্তুত ভাব কাটিয়ে ডানা ঝাপটে ওড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। “আমাকে নেবে না?” আমি ব্যাকুল হয়ে সুধোই। “জড়িয়ে ধর আমাকে। আমরা এখন উড়বো!” উল্লসিত কণ্ঠ তার। আমরা উড়তে থাকি। এ এক অসাধারণ মুহূর্ত! আমরা ক্রমশ উপরে উঠতে থাকি, আর এই শহরের বিশাল বিশাল দালানগুলোকে ম্যাচের বাক্সের মত ছোট আর ঠুনকো মনে হয়। আমরা মেঘেদের রাজ্য পরিভ্রমণ করছি! দেখো হিংসুক নগরবাসী, দেখো অফিসের বড় কর্তা, দেখো মামলাবাজ গ্রাম্য মাতব্বর, দেখো কুশলী পকেটমার, দেখো উত্তরাধনিক কবি, দেখো সচিবালয়ের আমলা, দেখো লুতুপুতু ভালোবাসার গল্পের পেইজ চালানো হামবড়া বোকাসোকা এ্যাডমিন, দেখতে পারছো? আমরা উড়ছি! উড়তে উড়তে কোথায় যাবো তা জানি না, তবে মেঘেদের রাজ্য থেকে হাজারো ভালোবাসার রূপকথা এনে দেবো তোমাদের জন্যে। তোমরা পড়বে, তোমরা প্রাজ্ঞ হবে, ফেসবুকে শেয়ার দিয়ে হাজারো লাইক কামাবে, কিন্তু উড়তে পারবে কি? পারবে না। তোমরা বড়জোর ফ্যান্টাসি কিংডমের ভয়াবহ রাইডগুলোতে “ফ্রেন্ডস”দের সাথে “মাস্তি” করে চড়ে একাধিক প্রেমিক প্রেমিকাদের সাথে ছবি শেয়ার করবে। ইতিমধ্যে হয়তো বা টিভি চ্যানেলগুলো জেনে গেছে এই অদ্ভুত উড্ডয়নের কথা। কিন্তু সরেজমিনে আমাদের দেখে নিউজ কাভার করবে তার উপায় নেই। বাঁচা গেলো! নইলে আমাদের এই অলীক উড্ডয়নের মজাটা তাদের বিরক্তিকর প্রশ্নাবলি আর উজবুক কৌতুহলের দাপটে ম্রিয়মাণ হয়ে যেতো।।
হঠাৎ আমরা একটা নিম্নমুখী চাপ অনুভব করি। মিঠি ক্রমশ নিচে নামছে।ও আর ডানা ঝাপটাতে পারছে না। ব্যাপারটা কী! ওহ হো, আমাদের সাপ্তাহিক মিলনপর্বের মেয়াদ শেষ হবার পথে। যতই নীচে নামতে থাকি ততই বাস্তব জগতের নিত্যদিনের কার্যক্রম আমাদের উড্ডয়নের পরাবাস্তব অনুভূতিকে নাকচ করে দিতে থাকে। আমাদের ভাবনাগুলো প্রতিস্থাপিত হতে থাকে।

আমাদের সন্তান আনাহিতার দুধ এবং ডায়াপার শেষ হয়ে গেছে। কিনতে হবে।বেচারা বাবা-মাকে মনে করে খুব কাঁদছে নিশ্চয়ই? আমরা নিচে নামছি… ঐ দেখা যায় আমাদের বাসা! ঐখানে আমাদের ছোট্ট সুখের সংসার। যেখানে বাস করে আমাদের সন্তান এবং আমার বাবা মা। বিবাহিত জীবনের এক ক্রান্তিলগ্নে নতুন করে শুরু করার অভিপ্রায়ে আমরা ঠিক করেছিলাম প্রতি সপ্তাহে একবার আমরা প্রেমিক প্রেমিকাদের মতো ঘুরবো যাবতীয় ক্লান্তি, ক্লেশ এবং টেনশন বাদ দিয়ে। ঠিক সেই বিবাহপূর্ব প্রেম করার সময়ের মতো। বাসায় আসার পর আমরা আগ্রহ ভরে টেলিভিশনের সামনে বসে থাকলাম খবর শোনার জন্যে। শহরে এত বড় একটা চমকপ্রদ ঘটনা ঘটে গেলো তা নিশ্চয়ই ব্রেকিং নিউজ এবং সংবাদের প্রধান শিরোনাম হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে! কিন্তু আশ্চর্য হয়ে দেখলাম তেমন কোন খবরই কেউ দেখালো না। যাকগে, না দেখাক! আমরা তো উড়েছি সত্যিই, আমরা তো প্রেম করার দিনগুলিতে ঠিকই ফেরত গিয়েছিলাম। আবারও যাবো নিশ্চয়ই। আমরা খুঁজে পেয়েছি স্বপ্নলোকের চাবি। এই কথাটা কাউকে বলবো না, কক্ষনো না!

গ্যালারি

বিষয় হোটেল ডি সাল ( ওরফে হোটেল লবন ) ঘটনা বলি

indexzz
এই বিশ্ব সম্পর্কে এখন আমাদের অনেক কিছু জানার বাকি আছে
যা ধারণার বাহিরে । যেমন এইযে আজকে এই পোস্টে যে বিষয়টি নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হলাম তা অবিশ্বাস্য হলেও সত্য আর তা হল আজ আপনাদের লবন হোটেলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া । চলুন প্রথমে এই লবন হোটেলের নামের সাথে পরিচয় হই । এই হোটেলটি ইংরেজীতে হোটেল ডি সাল নামে পরিচিত । আর এটি বলিভিয়ার দক্ষিন পশ্চিমাংশের উইনি লবন পল্লীতে অবস্থিত । এটি অবশ্য ১৯৯৩ সালে নির্মিত হলেও এটিকে
২০০৭ সালে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয় । এই হোটেলটি পরিপূর্ণ লবন দিয়ে বানানো । এটি রাজধানী লা পাজ শহর থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দক্ষিনে পৃথিবীর সব থেকে বড় সমতল লবন ক্ষেত্রে অবস্থিত । হোটেলটির ভেতরের সকল আসবাবপত্র থেকে শুরু করে এর বিছানা দরজা জানালাগুলোও জমাট লবন ব্লকে তৈরি । পুরো হোটেল ভবনটি বানাতে ৩৫ সেন্টিমিটার পুরু ১০ লাখ লবনের ব্লক লেগেছে । হোটেলটি সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৬৫০ মিটার উপরে অবস্থিত । হোটেলের দেয়ালগুলো বানানো হয়েছে লবন ও পানি মিশ্রনে । হোটেলটির ভেতরে ১৫ টি ঘর সহ স্টাইল রুম ও রেস্তরা বার সহ আধুনিক সব ধরনের সুযোগ সুবিধা রয়েছে ।

হিন্দু ধর্মলম্বী বিধবা জীবিত নারীদের মৃত স্বামীর সঙ্গে চিতায় পুরিয়ে দেওয়ার ইতিহাস ।


সতীদাহ এর অর্থ হচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বী বিধবা নারীদের স্বামী মারা যাওয়ার পরে সেই মৃত স্বামীর সাথে তার জীবন্ত দেহ চিতায় পুরিয়ে দেওয়া বা আত্মহুতি দেবার ঐতিহাসিক ঘটনা । যা রাজা রামমোহন রায় ঐকান্তিক প্রচেষ্টা চালিয়ে বন্ধ করেছিলেন ।
গুপ্ত সাম্রাজ্যের খৃষ্টাব্দ ৪০০ পূর্ব হতেই এই প্রথার প্রচলন সম্পর্কে ঐতিহাসিক ভিত্তি পাওয়া যায় । গ্রিক দিগিজয়ী সম্রাট আলেকজান্ডারের সাথে ভারতে এসেছিলেন ক্যাসান্ড্রিয়ার ঐতিহাসিক এরিস্টোবুলুস । তিনি টাক্সিলা তক্ষশীলা শহরে সতীদাহ প্রথার ঘটনা তার লেখনিতে সংরক্ষণ করেছিলেন । গ্রিক জেনারেল ইউমেনেস এর এক ভারতীয় সৈন্যের মৃত্যুতে তার দুই স্ত্রীই স্বত প্রণোদিত হয়ে সহমরণে যায় । এ ঘটনা ঘটে খৃষ্ট পূর্বাব্দ ৩১৬ খ্রিঃ ।


মূলত স্বত প্রণোদিত হয়েই পতির মৃত্যুতে স্ত্রীরা অগ্নিতে আত্মাহুতি দিতেন । পৌরাণিক কাহিনীতে এই আত্মাহুতি অতিমাত্রায় শোকের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখা হত । মহাভারত অনুসারে পাণ্ডুর দ্বিতীয় স্ত্রী মাদ্রী সহমরণে যান কারণ মাদ্রী মনে করেছিলেন পান্ডুর মৃত্যুর জন্য তিনি দায়ী যেহূতু পান্ডুকে যৌনসহবাসে মৃত্যুদন্ডের অভিশাপ দেওয়া হয়েছিল । রাজপুতানায় জহর ব্রত প্রচলিত যাতে কোন শহর দখল হবার পূর্বেই পুরনারীরা আত্মসম্মান রক্ষার্থে আগুনে ঝাঁপ বা বিষ পান করে স্বেছায় তারা নিজেরাই মৃত্যুবরণ করতেন যা ছিল সতীদাহের অনুরূপ । কিন্তু এক সময় বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে হিন্দু স্ত্রীদের এই সহমরণে বাধ্য করা হত । বিশেষ করে কোন ধনী লোকের মৃত্যুর পরে তার সম্পত্তির লোভে তার আত্মীয়রা তার সদ্যবিধবা স্ত্রীকে ধরে বেধে ঢাক ঢোলের শব্দ দ্বারা তার কান্নার আওয়াজকে চাপা দিয়ে তার স্বামীর সাথে চিতায় শুইয়ে জীবিত অবস্থায় পুড়িয়ে মারতেন ।

১৮২৯ সালের ডিসেম্বরের ৪তারিখে বৃটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সীতে সতিদাহ প্রথাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ্য ভাবে বাতিল ঘোষণা করা হয় । সেসময় বেঙ্গলের গভর্ণর ছিলেন লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক । অবশ্য এ আইনী কার্যক্রম গৃহীত হয় মূলত রাজা রামমোহন রায়ের সামাজিক আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতেই । এই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে লন্ডনের প্রিভি কাউন্সিলে মামলা করা হয় । প্রিভি কাউন্সিল ১৮৩২ সালে বেঙ্গলের গভর্ণর লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংকের ১৮২৯ এর আদেশ বহাল রাখেন । খুব অল্পসময়ের মধ্যে ভারতের অন্যান্য কোম্পানী অঞ্চলেও সতীদাহ প্রথাকে বাতিল ঘোষণা করা হয় ।
পাশ্চাত্যের গবেষকদের অনেকের মাঝে দ্বন্দ্ব থাকলেও ভারতীয় বেদ ভাষ্যকারগণদের মতে বেদে সতীদাহের উল্লেখ নেই । বরং স্বামীর মৃত্যুর পর পুনর্বিবাহের ব্যাপারেই তারা মত দিয়েছেন । এ বিষয়ে অথর্ববেদের দুটি মন্ত্র প্রণিধানযোগ্য ।
অথর্ববেদ হলোঃ
ইয়ং নারী পতি লোকং বৃণানা নিপদ্যত উপত্ব্য মর্ন্ত্য প্রেতম । ধর্মং পুরাণমনু পালয়ন্তী তস্ম্যৈ প্রজাং দ্রবিণং চেহ ধেহি ।

এর অর্থ হলোঃ হে মনুষ্য! এই স্ত্রী পুনর্বিবাহের আকাঙ্খা করিয়া মৃত পতির পরে তোমার নিকট আসিয়াছে । সে সনাতন ধর্মকে পালন করিয়া যাতে সন্তানাদি এবং সুখভোগ করতে পারে ।

অথর্ববেদ ১৮.৩.২ এই মন্ত্রটি ঋগবেদ ১০.১৮.৮ এ ও আছে
উদীষর্ব নার্ষ্যভি জীবলোকং গতাসুমেতমুপশেষ এহি ।
হস্তাগ্রাভস্য দিধিষোস্তবেদং পত্যুর্জনিত্বমভি সংবভূব ।

এর অর্থ হলোঃ হে নারী! মৃত পতির শোকে অচল হয়ে লাভ কি?বাস্তব জীবনে ফিরে এস । পুনরায় তোমার পাণিগ্রহনকারী পতির সাথে তোমার আবার পত্নীত্ব তৈরী হবে ।বেদের অন্যতম ভাষ্যকার সায়নাচার্যও তার তৈত্তিরীয় আরণ্যক ভাষ্যে এই মতই প্রদান করেছিলেন ।

দিল্লি সুলতানি রাজত্বকালে সতীদাহ প্রথার জন্য যাতে বিধবাকে বাধ্য না করা হয় তাই সতীর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে সতীদাহ প্রথা সম্পাদন করার রীতি ছিল । যদিও পরে এটি একটি প্রথানুগামিতার রূপ নেয় । মুঘল সম্রাটরা স্থানীয় চলিত প্রথায় সাধারণত অন্তর্ভুক্ত হতেন না কিন্তু তারা এই প্রথা বন্ধের ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলেন । মুঘল সম্রাট হুমায়ুন ১৫০৮ থেকে ১৫৫৬ সর্বপ্রথম সতীদাহের বিরুদ্ধে রাজকীয় হুকুম দেন । এরপর সম্রাট আকবর ১৫৪২ থেকে ১৬০৫ সতীদাহ আটকানোর জন্য সরকারীভাবে আদেশ জারি করেন যে কোন নারী প্রধান পুলিশ কর্মকর্তার সুনির্দিষ্ট অনুমতি ছাড়া সতীদাহ প্রথা পালন করতে পারবেন না । এছাড়াও এই প্রথা রদের জন্য তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের অধিকার দেন যা তারা যতদিন সম্ভব ততদিন সতীর দাহের সিদ্ধান্তে বিলম্ব করতে পারেন । বিধবাদেরকে উত্তরবেতন, উপহার, পুনর্বাসন ইতাদি সাহায্য দিয়েও এই প্রথা না পালনে উতসাহিত করা হত ।
ফরাসি বণিক এবং ভ্রমণকারী তাভেনিয়ের লেখা থেকে জানা যায় সম্রাট শাহ জাহানের রাজত্বে সঙ্গে শিশু আছে এমন বিধবাদেরকে কোনমতেই পুড়িয়ে মারতে দেওয়া হত না এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে গর্ভর অবস্থায় থাকা নারীদের তড়িঘড়ি সতীদাহের অনুমতি দিতেন না কিন্তু ঘুষ দিয়ে করান হত ।

ছবি তথ্য গুগল আর লেখার তথ্যসূত্র,,
আনন্দলোক আচার্য সুভাষ শাস্ত্রী পৃষ্ঠাঃ ৭৭ বৈদিক সাহিত্য কেন্দ্র যশোর

গ্যালারি

আপনি আত্মহত্যা না করে চাইলে বাঁচতে পারেন

আত্মহত্যা বা আত্মহনন করা হচ্ছে একজন নর কিংবা নারী কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের জীবন বিসর্জন দেয়া বা স্বেচ্ছায় নিজের প্রাণনাশের প্রক্রিয়াবিশেষ করা । প্রথমেই আমাদে জেনে নেওয়া দরকার ল্যাটিন ভাষায় সুই সেইডেয়ার থেকে আত্মহত্যা শব্দটি এসেছে এর অর্থ হচ্ছে নিজেকে হত্যা করা বা সেচ্চায় জীবন ত্যাগ করা । যখন কেউ আত্মহত্যা করেন তখন জনগণ এই প্রক্রিয়াকে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার করে থাকেন । ডাক্তার বা চিকিৎসকগণ আত্মহত্যার চেষ্টা করাকে মানসিক অবসাদজনিত গুরুতর উপসর্গ হিসেবে বিবেচনা করেছেন । ইতোমধ্যেই বিশ্বের অনেক দেশে আত্মহত্যার প্রচেষ্টাকে এক ধরনের অপরাধরূপে ঘোষণা করা হয়েছে । অনেক ধর্মেই আত্মহত্যাকে পাপ হিসেবে বিবেচিত করেছেন । যিনি নিজেই নিজের জীবন প্রাণ বিনাশ করেন তিনি আত্মঘাতক, আত্মঘাতী এবং আত্মঘাতিকা, আত্মঘাতিনীরূপে সমাজে পরিচিত থাকেন ।
প্রতিবছর প্রায় দশ লক্ষ মানুষ আত্মহত্যা করেন । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাদের মতে প্রতি বছর সারা বিশ্বে যে সব কারণে মানুষের মৃত্যু ঘটে তার মধ্যে আত্মহত্যাই হলো ত্রয়োদশতম প্রধান কারণ । কিশোর কিশোরী আর যাদের বয়স পয়ত্রিশ বছরের নিচে তাদের মৃত্যুর প্রধান কারণ হচ্ছে আত্মহত্যা । নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে আত্মহত্যার হার অনেক বেশি । পুরুষদের আত্মহত্যা করার প্রবণতা নারীদের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি ।
অনেক সময় নিরীহ জনসাধারণের উপর হামলার মাধ্যমে হত্যা করার জন্যও ব্যক্তির আত্মহত্যাকে এক ধরনের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে । আত্মঘাতী হামলার মাধ্যমে এক বা একাধিক ব্যক্তিকে হত্যার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কোন উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে । একজন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী বোমা বহন করে কিংবা তার শরীরে টেপ দিয়ে বোমা বেধে রেখে জনতাকে হত্যার লক্ষ্যে অগ্রসর হয় এবং বোমা ফাটায় এরফলে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী নিরীহ জনগণকে হত্যা কিংবা আহত করে এবং নিজেও এর শিকার হয় । সাধারণত বোমা বহনকারী ব্যক্তি নির্মমভাবে নিজের প্রাণ বিসর্জন দিয়ে থাকে কিংবা গুরুতর আহত হয়ে থাকেন ।
মানব সভ্যতার ইতিহাসে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য আত্মঘাতী হামলার উদাহরণ রয়েছে । যেমন কামিকাযিদের আক্রমণ অন্যতম । তারা জাপানী বোমারু বিমানের পাইলট হিসেবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকান সৈনিকদের হত্যার লক্ষ্যে নৌবহরে তাদের বিমানকে সংঘর্ষের মাধ্যমে ধ্বংস করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছিলেন ।
১১ সেপ্টেম্বর, ২০০১ তারিখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী বোমা হামলা পরিচালিত হয় । এতে উড়ন্ত বিমানকে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সুউচ্চ ভবন ও পেন্টাগনকে লক্ষ্য করে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়েছিল যা মানব ইতিহাসে জঘন্যতম ঘটনা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে ।
তাছাড়াও ভারতের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী ১৯৯১ সালের ২১ মে দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের শ্রীপেরামবুদুরে এক আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন । ভারতের ইতিহাসে এই ঘটনা রাজীব গান্ধী হত্যাকাণ্ড নামে পরিচিত পায় । উক্ত বিস্ফোরণে রাজীব গান্ধী ছাড়াও আরও চৌদ্দ জন নিহত হয়েছিলেন ।
নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং গবেষণার মাধ্যমে দেখা গেছে মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে ৮৭ থেকে ৯৮% আত্মহত্যাকর্ম সংঘটিত হয় । তাছাড়াও আত্মহত্যাজনিত ঝুকির মধ্যে অন্যান্য বিষয়াদিও আন্তঃসম্পৃক্ত। তারমধ্যে নেশায় আসক্তি ও জীবনের উদ্দেশ্য খুজে না পাওয়া এবং আত্মহত্যায় পারিবারিক ঐতিহ্য অথবা পূর্বেকার মাথায় আঘাত অন্যতম প্রধান কারন ।
আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে বেকারত্ব, দারিদ্র্যতা, গৃহহীনতা এবং বৈষম্যতাজনিত উপাদানগুলো আত্মহত্যায় উৎসাহিত করে থাকে । দারিদ্র্যতা সরাসরি আত্মহত্যার সাথে জড়িত নয় । কিন্তু এটি বৃদ্ধির ফলে আত্মহত্যার ঝুকি বৃদ্ধি পায় এবং উদ্বেগজনিত কারণে আত্মহত্যার উচ্চস্তরে ব্যক্তি অবস্থান করে । শৈশবকালীন শারীরিক ইতিহাস কিংবা যৌন অত্যাচার বা কঠোর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সময় অতিবাহিতজনিত কারণও ঝুকিগত উপাদান হিসেবে বিবেচিত আছে । হারহামেশায় দেখা যাচ্ছে বর্তমানে প্রেমে ব্যার্থতা বা প্রিয়জনের মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে আত্মহত্যা করার প্রবণতা বেড়ে চলেছে । পরিবার বা সমাজ স্বীকৃতি না দেওয়ায় প্রেমিক যুগলের সম্মিলিত আত্মহত্যার ঘটনাও প্রায়ই ঘটে চলছে ।
আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে আত্মহত্যাকে মানসিক অসুস্থতাসংক্রান্ত বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করেছে । উপযুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমে এ ব্যাধি থেকে রক্ষা পাওয়ার সম্ভবনা অনেক বেশি । যখন একজন ব্যক্তি আত্মহত্যার বিষয়ে ব্যাপক চিন্তা ভাবনা শুরু করেন তখনই তাকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে । মনোবিদগণ বলেন যে যখন ব্যক্তি নিজেকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে তা জানামাত্রই সংশ্লিষ্টদের উচিত হবে কাউকে জানানো । ভুক্তভোগী ব্যক্তি ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন যে কিভাবে আত্মহত্যা করবেন তা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ । যে সকল ব্যক্তি দুঃশ্চিন্তায় পড়েন তারা আত্মহত্যায় সর্বোচ্চ ঝুকিপূর্ণ দলের অন্তর্ভূক্ত । উন্নত দেশে বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চরম মুহুর্তজনিত হটলাইন রয়েছে যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাদের চিন্তা ভাবনা এবং আত্মহত্যার পরিকল্পনার কথা জানায় । হটলাইন ব্যবহারের মাধ্যমে ভুক্তভোগী তার সমস্যার সমাধানের পথ সম্পর্কে অবহিত হয়ে আত্মহত্যা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখে । বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতা মত অনুযায়ী নিজেকে ভালবেসে আত্মহত্যা থেকে বাচার জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয় । যেমন যখন কোন প্রেমিক প্রেমিকার যখন আত্মহত্যা করেন ।তখন তাকে ভাবতে হবে সে চলে গেছে বলে এখানেই শেষ নয় এই শেষ থেকেই নিজের জীবনতাকে আবার অন্যভাবে নতুন করে সাজিয়ে নিতে হবে ।
তাকে দেখিয়ে দিতে হবে সে যদি আপনাকে ছেড়ে দিয়ে যেয়ে সুখী হতে পারে তাহলে আপনি কেন তাকে ছাড়া সুখী হতে পারবেন না । আপনাকেও তাকে ছাড়া সুখী হওয়ার চেষ্টা করতে হবে এবং সেখানে আপনি নিশ্চিত জয় লাভ করবেন ।
বরং আপনি আত্মহত্যা না করে চাইলে বাঁচতে পারেন এবং আপনার কাছ থেকে আর দশ জন তরুনতরুনী শিখবে যে কিভাবে নিজেকে
শেষ হওয়া থেকেও আবার নতুন করে শুরু করা যায় ।

আপনি চাইলে এখানে পুরো ঘটনা পড়তে পারেন ।