উক্তি

কাচা হাতের লেখা কাচা গল্প ( প্রথম কিস্তি )

তরু মাঝে মাঝে এমন কিছু সময়ের মুখোমুখী দাঁড়ায় । যা মোটেও তরু আশা করে না । তরু সে সময়টাকে মূল্যহীন মনে করে,যে সময়টুককে তরু সব সময় তার জীবনের অমঙ্গলের কাঁটা তারের বেড়াজাল মনে করে এসেছে । ঠিক সেই রকম একটি সময় গত কালকেও এসেছিল তরুর সামনে । একে মনটা বেশি ভালো ছিল না । তার ওপরে শরীরটাও বেশ ক্লান্ত ছিল । যেন শরীর আর মন এক সাথে কন্ট্রাক করে কোমরে শিকল বেঁধে তরুর পেছনে লেগেছিল । সাথে কিছুটা সময় যোগ হয়েছিল জ্বর ।

সিগারেট সাথে আছে মদ এ যেন তরুর বেঁচে থাকার একমাত্র খাদ্য চাহিদা । মানুষের বেঁচে থাকতে যার যার দেশ উপযোগী হিসেবে খাদ্য । যেমন বিদেশীদের প্রধান খাদ্য ফল, বিয়ার, মদ । তাই বাঙালি হিসেবে তরুরও মাছ ভাত প্রধান খাদ্য হওয়া কথা থাকলেও তরুর প্রধান খাদ্য সকালের নাস্টার টেবিলে বিয়ার মদদিয়ে শুরু হয় । আর রাতে ডিনারও ওই সব ছাইপাস দিয়েই শেষ হয় । সিগারেট মদ বেশি পাণ করায় ইদানিং তরুর কাশির মাত্রাটাও দিনকে দিন বেড়ে চলছে । রাতে ডিনার শেষে নিজের রুমে গ্লাসের সামনে নিজেকে দেখে তরু নিজেইযেন তাকে চিন্তে পারছে না । কি হাল হয়েছে গত ‘ক’দিনে । নানান চিন্তা ভাবনায় তরুর খুব বিষন্নটা লাগছে । পেশারটাও যেন বেড়ে যাচ্ছে, দুটি বড়ি একসাথে মেরে দিয়ে হাতে করে একটি গল্পের বই নিয়ে খাটের একটি পাশে দেলান দিয়ে বসলেন । কেবল দুটি লাইন পড়ে তৃত্বিয় লাইনে পড়বে এমন সময় মোবাইল ফোনে রিং বাজতে শুরু করল ।
হ্যালো জি বস ! আহা! তরু অনেক রাত দিস্টাব করার জন্য দুংখীত । না না বস ঠিক আসে,তা ছাড়া আমি এখনো ঘুমোতে যাইনি । কি করছো তরু ? জি বস তেমন কিছু না চোখে ঘুম আসছিল না তাই গল্প পড়তেছিলাম । হ্যা শোন তরু যে কাজে তোমায় এত রাতে ফোন দেওয়া, হাতে নতুন একটি কাজ চেপেছে
কাল সময় করে একবার দেখা করো আমি চাই কাজটি তুমি নিজ হাতে বুঝে নিয়ে নিজেই হ্যান্ডোবার করবে । ওকে বলে তরু মোবাইল রেখে শুয়ে পড়লো ।

হঠাৎ ঘড়ির এলাম বাজতে শুরু করলো । তরু চোখ কচলাতে কচলাতে ঘড়ি দিকে তাকিয়ে সময় দেখে সকাল আটতা বাজে ।
তরু তরিগরি করে নাস্টা শেষ করে চলে যায় শহরের সেই বিখ্যাত পাঁচ তারার হোটেল ড্রিমগাল এতে ৩০৫ নম্বর রুমে ।
রুমে প্রবেশ করেই শুভ সকাল বস । হ্যা শুভ সকাল তরু । এসো বসো । কি খবর তরু শরীরের কি অবস্থা এখন ? তরু নিজের সকল কষ্টকে মনের ভেতরে চাপা রেখে বেশ বড় গলায় বসকে বললো জি বস এইতো আর কি মানুষ হিসেবে যা হয়ে থাকে এই সামান্য কাশি জ্বর ঠান্ডা আর মাঝে মাঝে গায়ে গায়ে জ্বর আবার মাঝে মাঝে কিছু ব্যথা ।
ও তেমন কিছুনা এই দুই চারটি প্যারাসিটিমল নয়তো নাপা এক সাথে গিলে নিই ব্যাস সব ঠিক হয়ে যায় । আমি একেবারেই ঠিক আছি বস ।
বস খুব রাগহয়ে তরুকে বললেন না তরু এটা তোমার ভুল ধারনা । তোমার মিথ্যে কথাগুলো হয়ত তোমার রোগকে পুশে বড় করতে
সাহায্য করবে, কিন্তু ছাড়াতে পারবে না । রোগকে এ ভাবে এড়িয়ে যাওয়ার ফলে কিন্তু মারাক্ত রোগের ঝুঁকিই বাড়ে । কোন সুফল বয়ে আনে না ।
বস তরুর কাধে একটি হাত রেখে কথা বলতে বলতে অফিস রুমের বারিন্দায় যেয়ে দুটি চেয়ার টেনে নিয়ে দুজনে বসলেন । হ্যা তরু তার পর বলো কি খাবে,ঠান্ডা না গরম ?
বুয়াকে দু’কাপ কফি দিতে বলেন । বুয়া কপি দিয়ে চলে গেল ।
কফিতে একটি চুমুক দিয়ে বস তরুকে বলেন তরু তোমাকে আমি যে বিশেষ কাজটির জন্য আসতে বলে ছিলাম টা আমি কিছুদিনের জন্য অফ রাখলাম । আর হ্যা তরু তুমি আজকের রাতেই পর্বত রাঙামাটি চলে যাবে ওখানে তোমাকে আমাদের দলের নতুন সদস্য যার কথা এর আগে একবার তোমাকে বোধ হয় বলেছিলাম
সে মিস সূচনা । সূচনাকে আমি বলে দিচ্ছি তুমি গাড়ি থেকে নামার পরে তোমাকে সে রিসিভ করবে । ওখানে থেকে কিছু দিন বেড়িয়ে পাহার পর্বত ও খোলামেলা বাতাস গায়ে লাগিয়ে ছেড়ে ওঠো তার পর না হয় আবার কাজে ব্যস্ত হয়ে যেয় । ওখানে তোমার থাকার কোন সমস্যা হবে না । সূচনাই তোমার থাকা থেকে শুরু করে চিকিৎসা সকল কিছুর ব্যবস্থা করে দিবে । মেয়েটাও ভারী মিষ্টি তাই আশা করি সব মিলিয়ে ওখানের পরিবেশ তোমার ভালই লাগবে । তরু বসের কথা শুনে বসকে বললো বস না গেলেই কি হয় না । তরুর বস তরুকে বললো তরু তুমি যদি আমার দলে থাকতে চাও তাহলে তোমাকে ওখানে যেতে হবে । কেননা আমি চাইনা কোন অসুস্থ রোগী আমার দলে থেকে আমার আমার দলটিকে অসুস্থ করে তুলুক । ওকে তরু তুমি এখন আসতে পারো । বলে বস তরুকে বিদায় দিলেন । তরু বস তাহলে পর্বত রাঙামাটি বলে বিদায় নিয়ে চলে আসলেন ।

হালকা মাঝারি টাইপের বৃষ্টি পড়ছে । এর ভেতরেই তরুকে গাড়ি থেকে নামতে হবে । কেননা এটাই রাঙামাটি শহরের বাস স্টান্ড ।
তরু গাড়ি থেকে নামলো নামার সাথে সাথে তরুর মোবাইলে একটি ম্যাসেজ যাতে লেখাছিল তরু তুমি চেয়ে দেখ গাড়ি থেকে যেখানে তোমাকে নামিয়ে দিছে তার বাম পাশে বেশি হলে ত্রিশ গজ দূরে নীল জামা লাল জিন্জ পরা চোখে কালো চশমা লাগানো হাতে এক গুচ্ছ রজনী গন্ধা, মাথায় ছাতি দিয়ে একটি সাদা প্রাইভেট কার নিয়ে দাঁড়ানো একটি মেয়ে আছে । মেয়েটির বয়স খুব বেশি হলে ২৩ থেকে ২৪ হবে । উনিই মিস সূচনা । উনার কাছে তুমি যাও উনি তোমার জন্যই অপেক্ষা করতেছেন ।

তরু হাটতে হাটতে গাড়ির সামনে এসে হাজির । তরু সূচনাকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন আপনি মিস সূচনা । সূচনা বললো হ্যা । কিন্তু আপনি ? আমি তরু ! এবার একটি মায়াবী হাসি দিয়ে সূচনা তার হাতের ফুলগুলো দিয়ে তরুকে স্বাগতম জানালেন । সূচনা তরুকে নিয়ে বাঙলয় ফিরলেন । তুরুর রুম দেখিয়ে সূচনা চলে গেলেন তাদের সকালের নাস্টার আয়োজন করতে ।

তরু ফ্রেস হয়ে নাস্টার টেবিলে বসলেন । নাস্টা শেষে তরুকে এক ঝলক মিষ্টি হাসি দিয়ে সূচনা বললেন, আপনি অনেক ক্লান্ত এখন একটু রেষ্ট নিয়ে নিন বিকেল বের হবো আমরা । আজ আমরা প্রথমে ডাক্তার দীপঙ্কর বড়ুয়ার সাথে দেখা করবো । এটা আমার জন্য বসের প্রথম নিদেশ । একথা বলে সূচনা চলে গেল দুপুরের খাবারের আয়োজন করতে । আর তরু তার রুমে যেয়ে খাটে ওপরে শুয়ে বিছানার ওপরে নানান ভাবনা গড়াগড়ির মাঝে ঘুমিয়ে পড়লেন ।

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ২:১৫
Advertisements
উক্তি

প্রিয় নায়ক সালমান শাহ স্মরণে

In response to The Daily Post’s writing prompt: “Cআজ ৬ ই সেপ্টেম্বর। কিছু মনে পড়ছে কি? হ্যা আমি সেই স্টাইল আইকন, বাংলা সিনেমার মহানায়ক ,চিরসবুজ সালমান শাহ এর কথাই বলছি।
আজ তার অকাল প্রয়ান দিবস।

(জন্ম: ১৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ – মৃত্যু: ৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬), বাংলাদেশের ১৯৯০-এর দশকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নায়ক। প্রকৃত নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার এই অভিনেতা সর্বমোট ২৭টি চলচ্চিত্র অভিনয় করেন।


এছাড়াও টেলিভিশনে তার অভিনীত গুটি কয়েক নাটক প্রচারিত হয়। ১৯৯৩ সালে তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত কেয়ামত থেকে কেয়ামত মুক্তি পায়। একই ছবিতে নায়িকা মৌসুমী ও গায়ক আগুনের অভিষেক হয়।

জনপ্রিয় এই নায়ক নব্বইয়ের দশকের বাংলাদেশে সাড়া জাগানো অনেক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

তিনি ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অকালে রহস্যজনক ভাবে মৃত্যুবরণ করেন। অভিযোগ উঠে যে, তাকে হত্যা করা হয়; কিন্তু তার সিলিং ফ্যানে ফাঁসিতে হত্যাকান্ডের কোনো আইনী সুরাহা শেষ পর্যন্ত হয়নি।
উনার স্বাক্ষরঃ


——————
ছোট থেকে সালমান শাহ এর ছবির সাথে পরিচয় আমার বড় ভাইয়ের কল্যানে। তবে যতদিনে আমার ছবি দেখার জ্ঞান হয়েছে ততদিনে এই মহা নায়ক পরপারের পথে পারি জমিয়েছেন। তার মোটামুটি সব সিনেমাই দেখা হয়েছে। ভাইয়া আমাকে পরীক্ষা শেষ হবার পর পর ই নিয়ে দেখত।তখন ছিল ভি সি আর এর যুগ। আমি আর ভাইয়া স্কুলের সাময়িক পরীক্ষা গুলো শেষ করেই হা করে গিলতাম উনার সিনেমা গুলো –
কেয়ামত থেকে কেয়ামত
তুমি আমার
অন্তরে অন্তরে
সুজন সখী
বিক্ষোভ
স্নেহ
প্রেম যুদ্ধ
দেন মোহর
কন্যাদান
স্বপ্নের ঠিকানা
আঞ্জুমান
মহা মিলন
আশা ভালবাসা
বিচার হবে
বুকের ভিতরে আগুন ইত্যাদি ইত্যাদি অনেক ছবি। নিচে উনার অভিনীত চলচ্চিত্রের লিস্ট দেয়া হল


সালমান শাহ এর অভিনীত নাটক সমূহঃ
পাথর সময়
ইতিকথা
আকাশ ছোঁয়া
দোয়েল
সব পাখি ঘরে ফেরে
সৈকতে সারস
নয়ন
স্বপ্নের পৃথিবী


এখনো মাঝে মাঝে শুনি তার সেই সিনেমার গান -“ভালো আছি ভালো থেকো”
বাংলা ফ্লিম ইন্ডাস্ট্রি এখনো উনার এই অভাব পূরন করতে পারে নাই। আর কোন সালমান শাহ কখনো আসবে কি না তাও জানা নেই।

তবে এই স্টাইল আইকন রয়ে যাবেন আমাদের হৃদয়ে যুগে যুগে অমর হয়ে । জানি না কখনো তার এই হত্যাকান্ডের সুরাহা হবে কিনা, তবে বার বার বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিধ্বনিত হবে “সালমান শাহ একজনই”
তথ্য সুত্রঃ উইকিপিডিয়া onnected.”